Birdby LogoBirdby
সাধারণ শালিক (Acridotheres tristis)

সাধারণ শালিক

সর্বনিম্ন উদ্বেগ (Least Concern) - আইইউসিএন লাল তালিকা অনুযায়ী। এটি ব্যাপক বিস্তৃত এবং বৃহৎ জনসংখ্যা রয়েছে।

Acridotheres tristis

পাখি দেখেছেন? Birdby অ্যাপ দিয়ে তৎক্ষণাৎ শনাক্ত করুন

অ্যাপ খুলুন

পরিচয়

সাধারণ শালিক, যা ইন্ডিয়ান ময়নাহ বা কমন ময়নাহ নামেও পরিচিত, একটি অত্যন্ত অভিযোজনশীল এবং প্রায়শই শহুরে পরিবেশে দেখা যায় এমন পাখি। এর আদি নিবাস এশিয়া হলেও এটি বিশ্বের বহু দেশে অনুপ্রবেশকারী প্রজাতি হিসেবে পরিচিত। এটি একটি মধ্যম আকারের পাখি, যার মজবুত গঠন এবং প্রাণবন্ত আচরণ রয়েছে। এর বুদ্ধিমত্তা এবং বিভিন্ন ধরনের শব্দ নকল করার ক্ষমতা প্রায়ই এটিকে মানুষের কাছাকাছি এনেছে, তবে কৃষিক্ষেত্রে এবং দেশীয় প্রজাতির জন্য এর নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে।

আকার ও আয়ু

দৈর্ঘ্য
২৩ সেমি (৯.১ ইঞ্চি)
ডানার বিস্তার
৩৮-৪৮ সেমি (১৫-১৯ ইঞ্চি)
ওজন
৮০-১৪০ গ্রাম
আয়ু
সাধারণত ৪-১২ বছর, তবে সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে।
খাদ্য
সর্বভুক। প্রধানত পোকামাকড়, লার্ভা, ফল, শস্য, বীজ, ফুলের অমৃত এবং ছোট মেরুদণ্ডী প্রাণী (যেমন টিকটিকি,หนู, পাখির ছানা) খায়। মানুষের আবর্জনার মধ্যেও খাবার খোঁজে।

শারীরিক বৈশিষ্ট্য

পালক
পূর্ণবয়স্ক পাখির মাথা, ঘাড় এবং বুক উজ্জ্বল কালো বা গাঢ় বাদামী। দেহের বাকি অংশ এবং ডানা গাঢ় বাদামী। ডানার উপরে একটি স্পষ্ট সাদা প্যাচ থাকে, যা উড়ার সময় খুব ভালোভাবে দেখা যায়। পেট ও নিচের অংশ সামান্য হালকা। লেজের ডগা সাদা।
ঠোঁটের আকৃতি
ঠোঁট মজবুত, তীক্ষ্ণ এবং উজ্জ্বল হলুদ বা কমলা-হলুদ রঙের।
চোখের রঙ
চোখের আইরিস গাঢ় বাদামী, এবং চোখের চারপাশে পালকহীন হলুদ চামড়ার বলয় থাকে, যা একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।
পায়ের রঙ
পা ও পায়ের পাতা উজ্জ্বল হলুদ।
পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট্য
গাঢ় বাদামী দেহ, কালো মাথা ও বুক, উড়ার সময় ডানায় স্পষ্ট সাদা প্যাচ, উজ্জ্বল হলুদ ঠোঁট ও পা, এবং চোখের চারপাশে হলুদ চামড়ার বলয়।
কিশোর চেহারা
অল্পবয়স্ক পাখির পালক পূর্ণবয়স্ক পাখির চেয়ে হালকা বাদামী হয় এবং কালো অংশগুলো ততটা উজ্জ্বল হয় না। চোখের চারপাশের হলুদ চামড়ার বলয়ও কম স্পষ্ট থাকে।
ঋতুগত পরিবর্তন
পালকের রঙের কোনো উল্লেখযোগ্য ঋতুগত পরিবর্তন হয় না।
যৌন বৈষম্য
পুরুষ ও মহিলা পাখির পালক প্রায় একই রকম, বাইরে থেকে তাদের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন।

কীভাবে শনাক্ত করবেন

  1. 1

    সাধারণ শারীরিক গঠন

    এটি একটি মাঝারি আকারের, মজবুত দেহের শালিক। দেহের রং গাঢ় বাদামী এবং মাথা কালো।

  2. 2

    রঙিন বৈশিষ্ট্য

    উজ্জ্বল হলুদ ঠোঁট, পা এবং চোখের চারপাশে হলুদ চামড়ার বলয় এর সবচেয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

  3. 3

    উড়ার সময়

    উড়ার সময় ডানার মাঝামাঝি একটি স্পষ্ট সাদা প্যাচ দেখা যায়, যা এটিকে অন্যান্য শালিক থেকে আলাদা করে।

  4. 4

    শব্দ

    এর বৈচিত্র্যময় এবং কোলাহলপূর্ণ ডাক, যা প্রায়শই কর্কশ এবং কিছু ক্ষেত্রে নকল করার প্রবণতা দেখা যায়।

  5. 5

    আচরণ

    দলবদ্ধভাবে ঘোরাফেরা করা, মাটিতে হেঁটে খাবার খোঁজা এবং মানুষের কাছাকাছি পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করা এর সাধারণ আচরণ।

আবাস ও বিস্তার

বায়োম
উষ্ণমন্ডলীয় ও উপ-উষ্ণমন্ডলীয় শুষ্ক ও আর্দ্র বনভূমি, সাভানা, তৃণভূমি, মরুভূমি, কৃষিভূমি এবং শহুরে এলাকা।
ভৌগলিক বিস্তার
আদি নিবাস দক্ষিণ এশিয়া (যেমন বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান) এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। তবে এটি ব্যাপকভাবে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ, উত্তর আমেরিকা (ফ্লোরিডা) এবং ইউরোপের কিছু অংশে।
উচ্চতার পরিসীমা
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত দেখা যায়, তবে সাধারণত নিচু অঞ্চলে বেশি পাওয়া যায়।
পছন্দের পরিবেশ
মানুষের বসতিপূর্ণ এলাকা, বাগান, পার্ক, কৃষিক্ষেত্র, খোলা বনভূমি এবং রাস্তার ধারে এটি বেশি দেখা যায়। এরা মানুষের তৈরি অবকাঠামো ব্যবহার করতে পছন্দ করে।

আচরণ

সক্রিয়তার সময়
দিনের বেলায় সক্রিয় থাকে (দিবালোকচর)। ভোরের আলো ফোটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খাবার সংগ্রহ ও অন্যান্য কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে।
খাবার অভ্যাস
এরা মূলত মাটিতে হেঁটে বা লাফিয়ে খাবার সংগ্রহ করে। কৃষিক্ষেত্র, বাগান, পার্ক এবং আবর্জনার স্তূপে খাবার খুঁজতে দেখা যায়। দলবদ্ধভাবে খাওয়াদাওয়া করে।
সামাজিক আচরণ
এরা খুব সামাজিক পাখি। প্রায়শই ছোট দল বা বড় ঝাঁকে ঘোরাফেরা করে, বিশেষত সন্ধ্যায় দলবদ্ধভাবে গাছে জড়ো হয়ে কিচিরমিচির করে।
উড়ার ধরন
এদের উড়ান বেশ শক্তিশালী এবং সরাসরি। উড়ার সময় ডানার সাদা অংশ স্পষ্ট দেখা যায়। প্রায়শই অল্প দূরত্বে এক গাছ থেকে অন্য গাছে উড়ে যায়।
পরিযান
সাধারণ শালিক সাধারণত পরিযায়ী নয়; এরা এক অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দা। তবে কিছু স্থানীয় নড়াচড়া দেখা যেতে পারে, বিশেষত খাদ্য বা প্রজননের সন্ধানে।
এলাকাবোধ
প্রজনন মৌসুমে এরা বেশ আঞ্চলিক হয় এবং বাসা ও বাসার আশপাশের এলাকা রক্ষা করে। আক্রমণাত্মক আচরণও দেখা যায়, বিশেষ করে অন্যান্য পাখির সাথে।

গান ও ডাক

গান
এদের একটি বৈচিত্র্যময় এবং জটিল vocalization repertoire আছে। গান একটি কলকল ধ্বনির মিশ্রণ, যাতে কর্কশ, তীক্ষ্ণ এবং ধাতব শব্দ থাকে। এরা প্রায়শই অন্যান্য পাখির ডাক, প্রাণীর শব্দ বা এমনকি মানুষের কথা নকল করতে পারে।
ডাক
প্রধান ডাকটি একটি কর্কশ 'মি-ইউউ' বা 'কেলক-কেলক' এর মতো। বিপদের সময় বা সতর্কতা জানানোর জন্য তীক্ষ্ণ চিৎকার করে। দলবদ্ধ অবস্থায় এরা ক্রমাগত কিচিরমিচির করতে থাকে। ভোরের আগে এবং সন্ধ্যার সময় এদের জোরালো কোলাহল শোনা যায়।
কখন ডাকে
সাধারণত দিনের বেলায়, বিশেষ করে ভোরে এবং সন্ধ্যায় এরা বেশি ডাকাডাকি করে। প্রজনন মৌসুমে এদের ডাকের তীব্রতা বাড়ে।

প্রজনন

প্রজনন ঋতু
এপ্রিল থেকে জুলাই বা আগস্ট পর্যন্ত, তবে স্থানীয় আবহাওয়া এবং খাদ্য সরবরাহের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। কিছু অঞ্চলে সারা বছরই প্রজনন করতে দেখা যায়।
বাসা বাঁধার অভ্যাস
এরা মূলত গর্ত বা কোটরে বাসা বাঁধে, যেমন গাছের কোটর, দেয়ালের ফাটল, ছাদের কার্নিশ, এমনকি বিদ্যুতের খুঁটিতেও বাসা তৈরি করে। বাসা খড়কুটো, ডালপালা, কাগজ, পালক এবং অন্যান্য মানবনির্মিত উপকরণ দিয়ে তৈরি হয়। উভয় লিঙ্গই বাসা তৈরিতে অংশ নেয়।
ডিমের সংখ্যা
সাধারণত ৪-৬টি ডিম পাড়ে, তবে ২-৭টি ডিমও দেখা যায়।
ডিমের বিবরণ
ডিম ফ্যাকাশে নীল বা সবুজ-নীল রঙের, কোনো দাগ থাকে না। সাধারণত ডিমগুলো ডিম্বাকার হয়।
উষ্ণায়নকাল
প্রায় ১৭-১৮ দিন। উভয় লিঙ্গই ডিমে তা দেয়।
উড়তে শেখার সময়
ছানারা জন্মাবার প্রায় ২২-২৪ দিন পর বাসা ছাড়ে।
পিতা-মাতার যত্ন
উভয় বাবা-মা ছানাদের খাওয়ানো এবং যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব পালন করে। ছানারা বাসা ছাড়ার পরেও আরও কিছুদিন বাবা-মায়ের উপর নির্ভরশীল থাকে।

কোথায় পাবেন

শহুরে এলাকা

পার্ক, বাগান, রাস্তার ধারে, উন্মুক্ত মাঠ, বাণিজ্যিক এলাকা এবং বসতবাড়ির আশেপাশে।

কৃষিভূমি

ক্ষেতের আশেপাশে, শস্যক্ষেত্রে এবং গ্রামীণ বসতিগুলোতে। পোকামাকড় সংগ্রহের জন্য খোলা জমিতে এদের দেখা যায়।

পার্ক ও বাগান

মানুষের আনাগোনা থাকা বড় পার্ক ও ব্যক্তিগত বাগানগুলোতে এদের পাওয়া যায়।

মাঠের পরামর্শ

  1. সকাল ও সন্ধ্যা. এরা ভোরে এবং সন্ধ্যার সময় সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে, যখন এরা খাবার খোঁজে এবং দলবদ্ধভাবে বিশ্রামস্থলে জড়ো হয়।
  2. শব্দ অনুসরণ করুন. এদের বৈচিত্র্যময় এবং কোলাহলপূর্ণ ডাক প্রায়শই এদের উপস্থিতি জানান দেয়। বিশেষ করে সন্ধ্যায় বড় দলে গাছের উপর এদের কিচিরমিচির শোনা যায়।
  3. নজরে রাখুন হলুদ উপাদান. ঠোঁট, পা এবং চোখের চারপাশের উজ্জ্বল হলুদ চিহ্নিতকারী চিহ্নগুলি শনাক্তকরণে সহায়ক।
  4. সাধারণ পর্যবেক্ষণ. এরা মানুষের উপস্থিতি সহজে সহ্য করে, তাই খুব বেশি লুকিয়ে এদের দেখতে হয় না। শহর বা গ্রামের যেকোনো খোলা জায়গায় এরা দৃশ্যমান।

অনুরূপ প্রজাতি

বাচ্চা শালিক

Acridotheres fuscus

বাচ্চা শালিকের দেহ সাধারণ শালিকের চেয়ে হালকা বাদামী এবং চোখের চারপাশে হলুদ চামড়ার বলয় নেই। এছাড়া, বাচ্চা শালিকের মাথায় একটি ছোট ঝুটি থাকে যা সাধারণ শালিকের নেই।

ব্রাহ্মণী শালিক

Sturnia pagodarum

ব্রাহ্মণী শালিকের মাথা এবং ঘাড়ের পেছনের অংশ কালো না হয়ে বাদামী-ধূসর রঙের হয়, এবং একটি ছোট ঝুটি থাকে। এর দেহ সাধারণ শালিকের থেকে হালকা রঙের হয় এবং চোখের চারপাশে হলুদ রিং থাকে না।

পাহাড়ি ময়না

Gracula religiosa

পাহাড়ি ময়না সম্পূর্ণ কালো রঙের এবং এর চোখের নিচে ও পেছনে উজ্জ্বল হলুদ মাংসল গঠন থাকে, যা সাধারণ শালিকের নেই। এর ঠোঁটও কমলা-লাল হয়।

দ্রুত তথ্য

আদি নিবাস:
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
পরিবারের সদস্য:
স্টার্নিডে (শালিক পরিবার)
আক্রমণকারী প্রজাতি:
বিশ্বের অন্যতম সফল অনুপ্রবেশকারী প্রজাতি
খাদ্য:
সর্বভুক (পোকামাকড়, ফল, শস্য, ছোট প্রাণী)
বাসস্থান পছন্দ:
মানব বসতি, কৃষিক্ষেত্র, খোলা বনভূমি

মজার তথ্য

  • সাধারণ শালিককে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচারের (IUCN) বিশ্বের ১০০টি আক্রমণাত্মক প্রজাতির মধ্যে অন্যতম হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, কারণ এটি স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের জন্য একটি গুরুতর হুমকি।
  • এরা প্রায়শই অন্যান্য পাখির বাসা দখল করে এবং নিজ এলাকার অন্যান্য পাখিদের তাড়িয়ে দেয়, বিশেষত প্রজনন মৌসুমে।
  • এদের কণ্ঠস্বরের বৈচিত্র্য এবং অন্যান্য শব্দ নকল করার ক্ষমতা এদেরকে সুপরিচিত করেছে, এবং কিছু অঞ্চলে এদের পোষা প্রাণী হিসেবেও পালন করা হয়।
  • এরা খুব দ্রুত শিখে নেয় এবং মানুষের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে অত্যন্ত পারদর্শী, যা তাদের বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ।

বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিভাগ

রাজ্য
অ্যানিম্যালিয়া
পর্ব
কর্ডাটা
শ্রেণী
অ্যাভেস
বর্গ
পাসেরিফর্মিস
গোত্র
স্টার্নিডে
গণ
অ্যাক্রিডোথেরেড
প্রজাতি
অ্যাক্রিডোথেরেড ট্রিস্টিস

সাধারণ শালিক সম্পর্কে আরও জানুন

যে কোনো জায়গায় পাখি শনাক্ত করুন

iOS, Android এবং ওয়েবে বিনামূল্যে। ছবি ও শব্দে শনাক্তকরণ, সম্পূর্ণ প্রজাতি ডেটাবেস এবং আপনার ব্যক্তিগত তালিকা।

অ্যাপে খুলুন